অরণ্যবহ্নি by তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | হাওলাদার
- Estimated Delivery : Up to 4 business days
- Free Shipping & Returns : On all orders over $200

অরণ্যবহ্নি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রান্তিক মানুষের বিদ্রোহ ও অধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক মহাকাব্য
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিপুণ ও জাদুকরী লেখনীর মাধ্যমে বাংলার প্রান্তিক, অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের জীবন সংগ্রামকে অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছেন। তাঁর রচিত এমনই এক অমর, ঐতিহাসিক ও বহুল পঠিত উপন্যাস হলো অরণ্যবহ্নি। ১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের (যাকে সাঁওতালি ভাষায় ‘হুল’ বলা হয়) জ্বলন্ত পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের এক অদম্য লড়াইয়ের নিখুঁত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। সম্প্রতি ২০২৫ সালের প্রথম প্রকাশে, প্রখ্যাত গবেষক ড. রবিউল হোসেনের চমৎকার সম্পাদনায় এবং ঝিনুক প্রকাশনীর (ও হাওলাদার) উদ্যোগে ১৬০ পৃষ্ঠার এই নতুন সংস্করণটি পাঠকদের জন্য নতুন আঙ্গিকে বাজারে এসেছে। অরণ্যবহ্নি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর এমন একটি অসামান্য সাহিত্য সৃষ্টি, যা প্রতিটি ইতিহাস ও সাহিত্যপ্রেমীর ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা একান্ত জরুরি।
বইটির সারাংশ (Book Summary)
অরণ্যবহ্নি উপন্যাসটির মূল উপজীব্য হলো ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও রক্তাক্ত অধ্যায়—সাঁওতাল বিদ্রোহ। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, স্থানীয় অত্যাচারী জমিদার, দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ এবং সুদখোর মহাজনদের সীমাহীন শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিরীহ ও প্রকৃতিপ্রেমী সাঁওতালরা কীভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ফুঁসে উঠেছিল, তার এক শিহরণজাগানো আখ্যান এই উপন্যাস। সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব—এই চার ভাইয়ের অকুতোভয় নেতৃত্বে শান্ত ও নিরীহ সাঁওতাল জনগোষ্ঠী কীভাবে হাতে তীর-ধনুক তুলে নিয়ে আধুনিক ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তারাশঙ্কর তাঁর শক্তিশালী গদ্যে সেই আগুনের স্ফুলিঙ্গকেই মূর্ত করে তুলেছেন।
উপন্যাসের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে সাঁওতালদের সরল জীবনযাপন, তাদের সংস্কৃতি, প্রকৃতির প্রতি তাদের নিবিড় টান এবং সেই সাথে শোষকদের বিরুদ্ধে তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত দরদ ও সহমর্মিতার সাথে দেখিয়েছেন যে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সবচেয়ে নিরীহ মানুষটিও কীভাবে একটি ভয়ংকর দাবানল বা ‘অরণ্যবহ্নি’-তে পরিণত হতে পারে। ঐতিহাসিক তথ্য এবং নিখাদ কল্পনার এক অপূর্ব মিশেল ঘটিয়ে লেখক এই বিদ্রোহের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে পাঠকের সামনে হাজির করেছেন।
বইটি কেন পড়বেন? (Why Read This Book?)
যাঁরা ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে লেখা গভীর ও অর্থবহ উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য বইটি পড়া অত্যন্ত প্রয়োজন। বইটি পড়ার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হলো:
- সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রামাণ্য দলিল: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ বা ‘হুল’ সম্পর্কে বিস্তারিত এবং আবেগপূর্ণ ধারণা পেতে এই উপন্যাসটি অদ্বিতীয়।
- প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র: জমিদার ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে কীভাবে সাধারণ কৃষক ও উপজাতিরা সংঘবদ্ধ হয়, তার এক নিখুঁত মনস্তাত্ত্বিক রূপায়ণ এখানে রয়েছে।
- তারাশঙ্করের অনবদ্য গদ্যশৈলী: রাঢ় বাংলার মাটি ও মানুষের কথা তারাশঙ্কর যেভাবে তাঁর আঞ্চলিক ভাষা ও সাবলীল গদ্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন, তা পাঠকদের এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়।
- ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব: শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে, রক্তে-মাংসে গড়া মানুষের আবেগ ও যন্ত্রণার আখ্যান হিসেবে এই বই বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে।
- চমৎকার সম্পাদনা: ড. রবিউল হোসেনের নিবিড় সম্পাদনায় ঝিনুক প্রকাশনীর এই সংস্করণটি অত্যন্ত মানসম্মত, যার ভাষা ও মুদ্রণ পাঠকের মন জয় করবে।
লেখক পরিচিতি (Author’s Bio)
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (২৩ জুলাই ১৮৯৮ – ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও কালজয়ী ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার। রাঢ় বাংলার (বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চল) রুক্ষ প্রকৃতি, সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, জমিদার প্রথার অবক্ষয় এবং সমাজের নিচুতলার মানুষের সুখ-দুঃখ তাঁর সাহিত্যের মূল উপজীব্য। তাঁর রচিত অন্তত ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পের বই এবং বহু নাটক ও প্রবন্ধ বাংলা সাহিত্যকে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর অমর সৃষ্টিগুলোর মধ্যে ‘গণদেবতা’, ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’, ‘কবি’, ‘আরোগ্য নিকেতন’ এবং ‘জলসাঘর’ অন্যতম। সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার, ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মাননা জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণ-এ ভূষিত হন। তাঁর বর্ণাঢ্য সাহিত্যজীবন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – উইকিপিডিয়া পেজটি ভিজিট করতে পারেন।
গ্রন্থাশ্রমের অন্যান্য বই (Related Books)
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য কালজয়ী উপন্যাস, ইতিহাস আশ্রয়ী বই এবং বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক সংগ্রহগুলো দেখতে আমাদের স্টোর ঘুরে আসুন। আপনার পছন্দের বইয়ের বিশাল ভাণ্ডার থেকে বই সংগ্রহ করতে ভিজিট করুন: গ্রন্থাশ্রম শপ ক্যাটাগরি।
অরণ্যবহ্নি বইটি অর্ডার করুন (Order Now)
ঐতিহাসিক এই মাস্টারপিস অরণ্যবহ্নি আজই আপনার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে যুক্ত করতে নিচের লিংকে ক্লিক করে দ্রুত অনলাইনে অর্ডার সম্পন্ন করুন:
অরণ্যবহ্নি 👉 অনলাইনে অর্ডার করুন এখানে
অনলাইন অর্ডারের পাশাপাশি জাবি (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) এর সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়ার ঠিক পাশেই অবস্থিত আমাদের ‘গ্রন্থাশ্রম’ স্টোর থেকে আপনি সরাসরি এসেও বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের জন্য আমরা সব সময় সেরা মানের বই সুলভ মূল্যে সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্টোরের অবস্থান (Google Maps Location)
সরাসরি আমাদের স্টোরে এসে বই দেখতে এবং সংগ্রহ করতে গুগল ম্যাপের নিচের নির্দেশনাটি অনুসরণ করুন:
Be the first to review “অরণ্যবহ্নি by তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | হাওলাদার”
You must be logged in to post a review.








Reviews
There are no reviews yet.