নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কবিতার নতুন নন্দন’ নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক বক্তৃতা
উন্মোচিত হলো ‘Sphaira: Journal of Arts and Humanities’-এর প্রথম সংখ্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোণা : জ্ঞানচর্চা, সাহিত্যবোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কবিতার নতুন নন্দন’ শীর্ষক এক মননশীল বক্তৃতা অনুষ্ঠান। একই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের ইংরেজি গবেষণা জার্নাল Sphaira: Journal of Arts and Humanities-এর প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় বক্তৃতামালা’-এর সপ্তম পর্ব। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “কবিতার নতুন নন্দন”। এ উপলক্ষে দেশের বিশিষ্ট কবি ও লেখক পিয়াস মজিদ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে সমকালীন কবিতার নন্দনচেতনা, ভাষার বিবর্তন, আধুনিক কাব্য-অভিব্যক্তি এবং সময়-সচেতন শিল্পদর্শনের নানা দিক বিশ্লেষণ করেন।
বক্তৃতায় তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের কবিতা কেবল সৌন্দর্যবোধের অনুশীলন নয়; বরং এটি মানুষের অভ্যন্তরীণ সংকট, সভ্যতার পরিবর্তন, প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতা এবং অস্তিত্ববোধের এক জটিল শিল্পরূপ। তাঁর বক্তব্যে আধুনিক কবিতার অন্তর্লীন বোধ, ভাষার নতুন নির্মাণশৈলী এবং কাব্যিক অভিজ্ঞতার বহুমাত্রিক দিক বিশেষ গুরুত্ব পায়।
মূল বক্তৃতার পর আলোচনায় অংশ নিয়ে মূল্যায়নধর্মী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাদ্দাম হুসাইন ও ড. মুহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম এবং ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁরা সমকালীন কবিতার ভাষা, পাঠপ্রবণতা এবং নন্দনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন। তিনি বলেন—
“কবিতার নতুন নন্দন মূলত মানুষের নতুন অভিজ্ঞতার ভাষা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কবিতার ভাষা, বোধ ও সৌন্দর্যচেতনা যে নতুন মাত্রা অর্জন করে, তা আমাদের মননকে আরও গভীর ও মানবিক করে তোলে।”
সভাপতির বক্তব্যে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম বলেন—
“কবিতার নতুন নন্দন আমাদের কেবল শিল্পসৌন্দর্যের নতুন দিগন্তের মুখোমুখি করে না; বরং এটি মানুষের অন্তর্জগৎ, সময়চেতনা ও সভ্যতার রূপান্তরকে নতুন ভাষায় অনুধাবনের পথও নির্মাণ করে।”
তিনি আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি কেবল পাঠদান নয়; বরং গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা ও মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মধ্য দিয়েই একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার স্বকীয় পরিচয় নির্মাণ করে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের গবেষণা জার্নাল ‘Sphaira: Journal of Arts and Humanities’-এর প্রথম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর, ট্রেজারার ও জার্নালের সম্পাদক অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন, জার্নাল সম্পাদনা-পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
মোড়ক উন্মোচনকালে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম বলেন—
“গবেষণা ও সৃজনশীল জ্ঞানচর্চার বিকাশে একটি মানসম্মত একাডেমিক জার্নাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৌদ্ধিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ‘Sphaira’ সেই জ্ঞানভিত্তিক অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে উঠবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার আসাদুজ্জামান খান পরান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পুরো আয়োজনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে অংশগ্রহণকারীরা অভিমত ব্যক্ত করেন।




