মেঘমল্লার (হার্ডকভার) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় | বইঅঙ্গন
প্রিন্ট / প্রকাশনী: বই অঙ্গন
- Estimated Delivery : Up to 4 business days
- Free Shipping & Returns : On all orders over $200

বইয়ের বিবরণ
| শিরোনাম | মেঘমল্লার |
| লেখক | বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় |
| প্রথম প্রকাশ | ১৯৩১ |
| প্রকাশক | ভানু রায়, কলকাতা |
| পৃষ্ঠা | ১৮২ |
| ভাষা | বাংলা |
| ধরন | ছোটগল্প সংকলন (চিরায়ত সাহিত্য) |
বইয়ের সারসংক্ষেপ
মেঘমল্লার চিরায়ত গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছোটগল্প সংকলনের শিরোনাম গল্প। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে এবং এতে মোট নয়টি ছোটগল্প সংকলিত হয়েছে। এদের মধ্যে ‘মেঘমল্লার’ গল্পটিকে সমালোচকদের মতে এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।
গল্পের পটভূমি গ্রামীণ বাংলার একটি মন্দির-মেলা কেন্দ্রিক পরিবেশ। জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তির উৎসবে দশপারমিতার মন্দিরে এক প্রসিদ্ধ সঙ্গীত সাধকের আগমনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তরুণ প্রধান চরিত্র প্রদ্যুম্ন সেই রহস্যময় বীণাবাদককে দেখার আশায় মন্দিরে উপস্থিত হয়। সারা দিন খোঁজার পর সন্ধ্যায় এক সাপুড়ে খেলায় জমা ভিড়ের মাঝে প্রদ্যুম্নের নজরে আসে মলিন বেশের এক প্রৌঢ়, যিনি ইশারায় তাকে কাছে ডাকেন। প্রৌঢ়টি নিজেকে প্রদ্যুম্নের পিতার পুরোনো বন্ধু বলে পরিচয় দেন এবং জানিয়ে দেন যে তিনিই সেই খ্যাতনামা গায়ক যাঁকে প্রদ্যুম্ন খুঁজছিল।
প্রদ্যুম্ন ও সেই গায়কের কথোপকথনে ক্রমে উন্মোচিত হতে থাকে ‘মেঘমল্লার’ রাগকে ঘিরে একটি ভয়ঙ্কর অভিশাপের কাহিনি। কিংবদন্তি আছে যে মেঘমল্লার (বা মেঘ মালহার) হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় রাগ পরিবেশিত হলে বৃষ্টি নামার শক্তি ধারণ করে। কিন্তু এই গল্পে সেই রাগের সুরে লুকিয়ে আছে আরেক অদ্ভুত শক্তি – যার মাধ্যমে দেবী সরস্বতীকে আবিষ্ট করা সম্ভব বলে গায়ক বিশ্বাস করেন। সঙ্গীতের এ অলৌকিক ক্ষমতা এবং মানুষের জীবনে এর প্রভাব নিয়ে গল্পটি এক রোমাঞ্চকর মোড় নেয়। ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় অতীতের একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যেখানে এই অভিশপ্ত রাগের চর্চা বিভীষিকাময় পরিণতি ডেকে এনেছিল।
‘মেঘমল্লার’ গল্পে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংগীতের রহস্যময় ক্ষমতা ও লোকবিশ্বাসের মিশ্রণে এক অভূতপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। গ্রামীণ মন্দির প্রাঙ্গণ, বর্ষার আগমনী সুর আর দেবীর আখ্যান – এইসব উপাদান গল্পটিকে গভীরতায় পূর্ণ করেছে। লেখকের সুবিশাল কল্পনা ও স্বভাবসুলভ সহজ ভাষাশৈলী পাঠককে এমন এক জগতে নিয়ে যায়, যেখানে আধ্যাত্মিকতা এবং ভয় একসূত্রে গাঁথা।
বাংলা সাহিত্যে ‘মেঘমল্লার’ একটি চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছে। প্রায় শত বছর পরেও গল্পটির আবেদন অমলিন রয়ে গেছে এবং বিভিন্ন সময়ে এটি পুনরায় মুদ্রিত ও আলোচিত হয়েছে। সমালোচক ও পাঠকমহলে এটি বিভূতিভূষণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প হিসেবে স্বীকৃত, যা তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে। এই গল্পের থিম ও বর্ণনা বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক ধারার একটি উৎকৃষ্ট নিদর্শন, যা নতুন পাঠকদেরও মুগ্ধ করতে সক্ষম।
কেন পড়বেন এই বইটি
- চিরকালীন ক্লাসিক: ‘মেঘমল্লার’ একটি কালজয়ী গল্প, যা আজও পাঠকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে; বাংলা সাহিত্যের অমূল্য ধন হিসেবে বিবেচিত।
- রহস্য ও অলৌকিকতার মিশ্রণ: সংগীত, পৌরাণিক বিশ্বাস ও অতিলৌকিক ঘটনার অনন্য সংমিশ্রণ পাঠককে গল্পের প্রতিটি মুহূর্তে টানটান উত্তেজনায় রাখবে।
- লেখকের অনন্য লেখনশৈলী: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন্ত ভাষা ও পরিবেশ চিত্রণ এই গল্পকে বাস্তব অনুভূতি প্রদান করেছে, যা পড়ার সময় চোখের সামনে দৃশ্য ফুটে ওঠে।
- সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গ্রামীণ বাংলা, লোকসংস্কৃতি ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রেক্ষাপটে গল্পটি রচিত; এতে বাংলার সংস্কৃতি ও সমাজের একটি চমৎকার ছবি ফুটে উঠেছে।
- বিভিন্ন ছোটগল্পের সংগ্রহ: এই একটি বইয়েই মিলবে নয়টি ভিন্ন স্বাদের ছোটগল্প, প্রতিটিই বাংলা ছোটগল্পের ধারায় উল্লেখযোগ্য – তাই এক বইয়ে বহু রসাস্বাদনের সুযোগ।
লেখক পরিচিতি
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪–১৯৫০) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রখ্যাত বাঙালি লেখক। তাঁর সর্বাধিক পরিচিত রচনা হলো উপন্যাস পথের পাঁচালী (যা থেকে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন) এবং চাঁদের পাহাড়, এছাড়াও বহু উপন্যাস ও ছোটগল্পে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির বাস্তবসম্মত ও হৃদয়গ্রাহী চিত্রায়নের জন্য বিভূতিভূষণ খ্যাতি অর্জন করেন। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মৃত্যুর পর রবীন্দ্র পুরস্কারে (১৯৫১) ভূষিত হন। তাঁর রচনাসমূহ আজও সমানভাবে আদৃত হয় এবং ‘মেঘমল্লার’-এর মতো গল্পগুলি বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে চিরউজ্জ্বল হয়ে আছে।
সম্পর্কিত বই
এই ধরণের আরও ক্লাসিক সাহিত্য পড়তে ভিজিট করুন আমাদের অন্য সব সাহিত্য সম্ভার বিভাগের পৃষ্ঠা।
অর্ডার ও যোগাযোগ
অর্ডার করতে ফোন করুন: 09696120972
নীচের মানচিত্রে আমাদের স্টোরের অবস্থান দেখুন:







