সংস্কৃতি নগর পত্রিকা; বর্ষ ১, সংখ্যা ২ | সংস্কৃতিনগর
প্রিন্ট / প্রকাশনী: Granthasram(March25)
- Estimated Delivery : Up to 4 business days
- Free Shipping & Returns : On all orders over $200
“সংস্কৃতি নগর”: জাহাঙ্গীরনগরের বুকে এক সজীব সাহিত্য-বটবৃক্ষ
ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে, সবুজ বনভূমির মাঝে লাল ইটের ইমারত আর অতিথি পাখির জলকেলি—এই হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এই ক্যাম্পাসের পরিচিতি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, যাকে ভালোবাসার সাথে ডাকা হয় ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’। আর এই সাংস্কৃতিক বাতাবরণের নিরলস ধারক ও বাহক হলো এখানকার শিক্ষার্থীরা, যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল ‘সংস্কৃতি নগর’ নামের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকাটি।
তারুণ্যের মগ্নতা ও সৃজনের আলো
’সংস্কৃতি নগর’ কোনো ভারী অ্যাকাডেমিক জার্নাল বা বিভাগীয় মুখপত্র নয়। এটি পুরোপুরিই ক্যাম্পাসের তারুণ্যের স্পন্দন, মুক্তচিন্তা এবং সৃজনশীলতার মুক্তমঞ্চ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে নবীনতম শিক্ষার্থী—সবার ভাবনা, সাহিত্য, শিল্প সমালোচনা ও সাংস্কৃতিক খবরাখবর নিয়ে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। যখন কোনো নতুন লেখকের কবিতা বা গল্প প্রথমবার ছাপার অক্ষরে দেখার আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়, তখন এই ‘সংস্কৃতি নগর’ই হয়ে ওঠে তাদের আস্থা ও সাহসের প্ল্যাটফর্ম। ঠিক যেমনটি হয়েছিল ‘জুলাই ২৪’ পত্রিকাটিতে। সম্পাদক ‘সাইদ শিমুল’ ও তার নিরলস প্রচেষ্টা পত্রিকাটিকে ক্রমাগত অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।
পত্রিকাটির প্রতিটি সংখ্যায় জাহাঙ্গীরনগরের চারপাশের জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। এখানকার প্রকৃতি, রাজনীতি, জীবনবোধ এবং শিল্প-সাহিত্যের জটিলতা—সবকিছুই স্থান করে নেয় এর পাতায়। এর মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় নতুন নতুন আলোচনা, যা শিক্ষার্থীদের মননকে শাণিত করে তোলে এবং তাদের কেবল ভালো পাঠক নয়, ভালো চিন্তাবিদ হিসেবেও গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
গ্রন্থাশ্রম: একটি নীরব কিন্তু অপরিহার্য সেতুবন্ধন
একটি স্বাধীন সাহিত্য পত্রিকার সজীবতা কেবল লেখার মানের উপর নির্ভর করে না, পাঠকের হাতে তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়ার উপরেও নির্ভর করে। ‘সংস্কৃতি নগর’-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনাকে নিয়মিতভাবে পাঠক সমাজের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজটি করে চলেছে বই সেবা গ্রন্থাশ্রম (Granthasram)।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক এই সাহিত্যচর্চার উদ্যোগকে বাঁচিয়ে রাখতে গ্রন্থাশ্রম কেবল একজন পরিবেশক নয়; তারা যেন সৃজনশীলতা এবং পাঠকের মধ্যে তৈরি হওয়া এক নীরব সেতুবন্ধন। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পত্রিকাটি ক্যাম্পাসের সাহিত্য সমাজে স্থান করে নিতে পেরেছে। এই যৌথ উদ্যোগই প্রমাণ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে যে সাংস্কৃতিক আলো জ্বালানো হয়েছে, তাকে বৃহত্তর ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দিতে সকলের সম্মিলিত ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা কতখানি অপরিহার্য।
মোটকথা, ‘সংস্কৃতি নগর’ কেবল একটি মুদ্রিত পত্রিকা নয়; এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সৃজনশীল আত্মা, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পরিবেশকদের সম্মিলিত যত্নে একটি সজীব সাহিত্য-বটবৃক্ষের মতো শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে চলেছে। এই পত্রিকাটি প্রমাণ করে, বইয়ের পাতা আর পাঠ্যসূচির বাইরেও জ্ঞানের এক অফুরন্ত ভাণ্ডার রয়েছে, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি আর শিল্প মিলেমিশে একাকার।
লিখেছেন: মো: মাহফুজ আহমেদ
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, জা.বি।
প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক – গ্রন্থাশ্রম।







