আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর | বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র
- Estimated Delivery : Up to 4 business days
- Free Shipping & Returns : On all orders over $200
আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক সংযোজন। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটিকে বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক উপন্যাসের মর্যাদা দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে যখন বাংলা সাহিত্য কেবল সংস্কৃতঘেঁষা গাম্ভীর্যপূর্ণ সাধু ভাষায় বন্দি ছিল, তখন প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর অত্যন্ত সাহসের সাথে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা বা চলিত রীতি ব্যবহার করে এই আখ্যানটি রচনা করেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর সংস্করণটি আধুনিক পাঠকদের জন্য এক অনন্য সংগ্রহ।

আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর: বাঙালির অবক্ষয় ও নৈতিক পরিবর্তনের আখ্যান
| বইয়ের নাম | আলালের ঘরের দুলাল |
| লেখক | প্যারীচাঁদ মিত্র (টেকচাঁদ ঠাকুর) |
| সম্পাদক | মারুফুল ইসলাম |
| প্রকাশক | বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র |
| সংস্করণ | 5th Editor, 2017 |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা | ১২৬ পৃষ্ঠা |
উপন্যাসের পটভূমি ও মতিরলালের অবক্ষয়
আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর উপন্যাসের মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে কলকাতার এক ধনী পরিবারকে কেন্দ্র করে। বাবুরাম বাবু তাঁর আদরের বড় ছেলে মতিরলালকে মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দিয়ে বখে যাওয়ার পথে ঠেলে দেন। মতিরলাল অসৎ সঙ্গে পড়ে মদ্যপান, জুয়া এবং বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেয়, যা তার পরিবারের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। অন্যদিকে তার ছোট ভাই রামলাল ছিল বিনয়ী ও সুশিক্ষিত। আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর এর মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে অপশিক্ষা এবং কুসঙ্গ একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই উপন্যাসের ঠকচাচা চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যের এক চিরস্থায়ী খলচরিত্র হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।
ভাষা বিপ্লব: আলালী ভাষা ও আধুনিক গদ্য
বাংলা গদ্যের ইতিহাসে আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর এর গুরুত্ব অপরিসীম। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই ভাষার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। এই গ্রন্থে লেখক যে ‘আলালী ভাষা’ ব্যবহার করেছেন, তা ছিল সমকালীন সমাজ ও মানুষের নাড়ির স্পন্দন। সাধু ভাষার জড়তা ভেঙে সাহিত্যের ভাষাকে সাধারণের কাছাকাছি নিয়ে আসাই ছিল লেখকের মূল উদ্দেশ্য। ১২৬ পৃষ্ঠার এই পরিমার্জিত সংস্করণে সম্পাদক মারুফুল ইসলাম মূল ভাষার স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখে কঠিন শব্দের টীকা যুক্ত করেছেন, যা বর্তমান প্রজন্মের পাঠকদের আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর বুঝতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে।
কেন এই ঐতিহাসিক বইটি আপনার সংগ্রহে রাখা উচিত?
- প্রথম সার্থক উপন্যাস: বাংলা সাহিত্যের মূল ভিত্তি বুঝতে এই বইটি পাঠ করা অপরিহার্য।
- সামাজিক শিক্ষা: সন্তান পালন এবং নৈতিকতার গুরুত্ব নিয়ে এতে এক কালজয়ী বার্তা রয়েছে।
- চমৎকার চরিত্রায়ন: মতিরলাল, বাবুরাম বাবু ও ঠকচাচা চরিত্রগুলো আজও সমাজের প্রতিচ্ছবি।
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সংস্করণ: নির্ভুল মুদ্রণ, উন্নত বাঁধাই এবং মারুফুল ইসলামের নির্ভরযোগ্য সম্পাদনা।
ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব
উনিশ শতকের কলকাতার সমাজচিত্র এবং নব্য বাবু সম্প্রদায়ের অন্ধকার দিকগুলো আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর এর মতো আর কোনো বইতে এত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেনি। এটি কেবল একটি আখ্যান নয়, বরং তৎকালীন ব্রিটিশ শাসিত বাংলার এক সমাজতাত্ত্বিক দলিল। আজকের পাঠকদের কাছে এই বইটির গুরুত্ব দ্বিমুখী—একদিকে সাহিত্যের ইতিহাস জানা, অন্যদিকে উনিশ শতকের মানুষের জীবনযাত্রা অনুভব করা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই ধ্রুপদী সৃষ্টিকে সুলভ মূল্যে পুনরায় প্রকাশ করে সাহিত্যসেবীদের বড় উপকার করেছে।
লেখক পরিচিতি: প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪–১৮৮৩)
প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার অন্যতম প্রধান বুদ্ধিজীবী এবং সমাজ সংস্কারক। তিনি ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্যচর্চা করতেন। তিনি কেবল লেখক ছিলেন না, ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরির কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলা গদ্যে প্রথম প্রাণের স্পন্দন লাগে। তাঁর অমর কীর্তি আলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অক্ষয় স্তম্ভ হয়ে থাকবে।
গ্রন্থাশ্রমের বিশেষ বিভাগসমূহ (Related Links)
বাংলা সাহিত্যের আরও কিছু ধ্রুপদী ও ঐতিহাসিক বই দেখতে ভিজিট করুন:
- বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী ক্লাসিক সংগ্রহ
- ঐতিহাসিক ও সামাজিক উপন্যাসের সেরা সংগ্রহ
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র-এর সকল বই
সংগ্রহ করুন এখনই!
বাঙালির শেকড় এবং বাংলা উপন্যাসের সূতিকাগার ‘আলালের ঘরের দুলাল’ বইটি আজই আপনার সংগ্রহে যুক্ত করুন।
🛒 এখনই অর্ডার করুন (Order Now)
* ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং দ্রুততম হোম ডেলিভারি সুবিধা।








