পুনর্ভবা : ওয়ালীউল্ল্যাহ সংখ্যা | LocalPrint/PaperBack
প্রিন্ট / প্রকাশনী: Localprint(PaperBack)
- Estimated Delivery : Up to 4 business days
- Free Shipping & Returns : On all orders over $200
বাংলা সাহিত্যের এক ‘বামনাবতার’তুল্য কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ (১৯২২-১৯৭১)।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘পুনর্ভবা’ পত্রিকা সগৌরবে প্রকাশ করছে তার দ্বিতীয় সংখ্যা, যা নিবেদিত হয়েছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্’র জন্মশতবর্ষের প্রতি। কথাসাহিত্যে তিনি পূর্ববঙ্গীয় মানসপট এবং পাশ্চাত্য ভাবনাকে চিরন্তন মানুষের অন্তর্লোকে দাঁড়িয়ে প্রকাশ করেছেন। আঞ্চলিক ভূমিরস এবং মানবের দেশকালাতীত প্রবণতা— এই ত্রিপাদ ভূমি ওয়ালীউল্লাহ্’র সাহিত্যকে আজও করে তুলেছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ‘পুনর্ভবা’র এই বিশেষ সংখ্যাটি তাঁর সাহিত্যের বহুমাত্রিকতাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করেছে।
সংখ্যার বিশেষ আকর্ষণ ও আলোচনা
এই সংখ্যায় প্রাবন্ধিক ও সমালোচকদের লেখায় ওয়ালীউল্লাহ্’র সৃষ্টিকর্মের গভীরে প্রবেশ করা হয়েছে:
- ‘পরাজয়’ গল্পে মানবমনের আলো-অন্ধকার: লুৎফর রহমান তাঁর প্রবন্ধে ওয়ালীউল্লাহ্’র গল্প ‘পরাজয়’-এর এক বহুকৌণিক বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করেছেন। তিনি মানবমনের আলো-অন্ধকার এবং ব্যক্তি-শ্রেণির অস্তিত্বশীলতার তুলনামূলক অবস্থান নিরূপণ করেছেন।
- ব্যক্তির মনোজাগতিক অনুসন্ধান: খুরশীদ আলম ওয়ালীউল্লাহ্’র কিছু অগ্রন্থিত গল্পের ভিত্তিতে আমাদের ব্যক্তির মনোজগতের সন্ধান দিয়েছেন। তাঁর অনন্য ভাষাভঙ্গি লেখকের মনোজাগতিক ব্যঞ্জনাসমূহকে প্রকাশে সহায়ক হয়েছে।
- বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটে ওয়ালীউল্লাহ্: কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হক বিশ্বসাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস নির্মাণে ওয়ালীউল্লাহ্’র অবস্থান চিহ্নিত করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
- ‘লালসালু’তে অস্তিত্ববাদের পাঠ: অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ তাঁর প্রবন্ধে বিশ্বদর্শন ও সাহিত্যে প্রভাববিস্তারী অস্তিত্ববাদের আলোকে ‘লালসালু’র পাঠ বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে উপন্যাসের মজিদ অস্তিত্বের লড়াইয়ে ধর্মের ঊর্ধ্বে ওঠে প্রতারণার মধ্য দিয়েও নিজের আপন অস্তিত্বকে নিরন্তর জারি রাখে। প্রাবন্ধিকের ভাষায়: “উদগ্র আত্মমুখিনতা মজিদকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে… তথাপি মজিদের অন্তর্জগতে বা অস্তিত্বের কেন্দ্রভাগে শূন্যতা, আশঙ্কা, নিঃসঙ্গতা প্রভৃতি নেতিবাচক বোধের জন্ম নেয়।”
প্রাবন্ধিকের ভাষায়: “উদগ্র আত্মমুখিনতা মজিদকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে… তথাপি মজিদের অন্তর্জগতে বা অস্তিত্বের কেন্দ্রভাগে শূন্যতা, আশঙ্কা, নিঃসঙ্গতা প্রভৃতি নেতিবাচক বোধের জন্ম নেয়।”
- মৃত্যুচেতনা ও মানবিক রূপান্তর: মোস্তফা তারিকুল আহসান ওয়ালীউল্লাহ্’র উপন্যাসের চরিত্রসমূহে মৃত্যুর যে মানবিক রূপ-রূপান্তর, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
- প্রাচ্যবাদের বিরুদ্ধে স্যাটায়ার: খালেদা আহসান খেয়া ‘শিম কীভাবে রান্না করতে হয়’ (শিবব্রত বর্মণ অনূদিত) স্যাটায়ারধর্মী উপন্যাসটি আলোচনা করেছেন। ঔপন্যাসিক কীভাবে উপনিবেশের চোখে প্রাচ্যের মানুষ সম্বন্ধনীয় বিবরণের বিরুদ্ধে ফিকশনের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিয়েছেন, সেটিই এখানে মুখ্য। লেখিকা জানান, দীর্ঘদিন পাশ্চাত্যে অবস্থানের কারণে ওয়ালীউল্লাহ্ তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এই উপন্যাসে ধারণ করতে পেরেছিলেন।
অন্যরকম সংযোজন
নাট্য আলোচনা অনুপস্থিত থাকলেও, নাট্যকার রুবাইয়াৎ আহমেদ তাঁর প্রবন্ধে সেলিম আল দীন প্রযোজিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসের মঞ্চ-অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। বর্ণনাত্মক ধারায় এই মঞ্চায়ন ওয়ালীউল্লাহ্’র রচনার এক অভিনব উপস্থাপনা।
তাছাড়া, এই সংখ্যায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে ২০২৩ সালে নেওয়া ওয়ালীউল্লাহ্’র ফ্রান্সে বাসরত কন্যা ও পুত্রের সাক্ষাৎকারের অনুবাদ। আপন সন্তানের কন্ঠে একজন পিতা ও সাহিত্যিকের মূল্যায়ন পাঠককে এক নতুন দৃষ্টিকোণ দেবে।
আশা করি, ‘পুনর্ভবা: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সংখ্যা’ অতীত ও অনাগত কালে লিখিত ওয়ালীউল্লাহ্ বিষয়ক নানা পাঠের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।







