গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত by জনাথন সুইফট , লীলা মজুমদার (অনুবাদক) | বাতিঘরবুকশপঢাকা
- Estimated Delivery : Up to 4 business days
- Free Shipping & Returns : On all orders over $200

গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত – জোনাথন সুইফট: কল্পনার মোড়কে ঢাকা এক অসামান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যঙ্গ
বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ, জনপ্রিয় এবং বহুল পঠিত একটি ক্ল্যাসিক গ্রন্থ হলো গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত (মূল ইংরেজি নাম: Gulliver’s Travels)। আয়ারল্যান্ডের প্রখ্যাত লেখক জোনাথন সুইফটের রচিত এই বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৭২৬ সালে। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি চমৎকার অ্যাডভেঞ্চার বা রূপকথার গল্প মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে তৎকালীন ব্রিটিশ রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা এবং মানবচরিত্রের চরম অহংকার ও ত্রুটিগুলোর প্রতি তীব্র শ্লেষ ও ব্যঙ্গ (Satire)। বাতিঘর প্রকাশনী থেকে সম্প্রতি ২০২৫ সালে প্রকাশিত ২৭১ পৃষ্ঠার এই চমৎকার সংস্করণটির অনুবাদ করেছেন বাংলা শিশুসাহিত্যের কিংবদন্তি লেখিকা লীলা মজুমদার। তাঁর জাদুকরী ও প্রাঞ্জল ভাষার কারণে গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত বইটি ছোট-বড় সকল পাঠকের কাছেই একটি মুগ্ধকর পাঠ্য অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত বইটির সারাংশ (Book Summary)
উপন্যাসটি লেমুয়েল গালিভার নামক একজন জাহাজের সার্জনের জবানিতে লেখা, যিনি সমুদ্রযাত্রায় গিয়ে বারবার ভয়ংকর ঝড়ের কবলে পড়ে অদ্ভুত সব অজানা দ্বীপে গিয়ে পৌঁছান। গালিভারের এই দুঃসাহসিক অভিযানগুলো মূলত চারটি ভাগে বিভক্ত:
১. লিলিপুটদের দেশে: গালিভারের প্রথম যাত্রা তাকে নিয়ে যায় ‘লিলিপুট’ নামক এক দ্বীপে, যেখানে বসবাসকারী মানুষদের উচ্চতা মাত্র ছয় ইঞ্চি। বিশাল আকৃতির গালিভার তাদের কাছে হয়ে ওঠে এক আজব প্রাণী। এই ক্ষুদ্র মানুষদের ক্ষুদ্রতর রাজনৈতিক কোন্দল, সামান্য কারণে যুদ্ধ এবং তাদের অহংকারের মধ্য দিয়ে লেখক মূলত মানুষের সংকীর্ণ মনমানসিকতাকে ব্যঙ্গ করেছেন।
২. ব্রবডিংনাগ-এর দেশে: দ্বিতীয় যাত্রায় গালিভার এমন এক দেশে পৌঁছায়, যেখানে সবকিছুই দৈত্যাকার। এখানকার মানুষেরা এতই বিশাল যে, গালিভার তাদের কাছে খেলনা পুতুলের মতো। এই দৈত্যদের কাছে গালিভার যখন অত্যন্ত গর্বভরে নিজের দেশ ও সভ্যতার কথা বর্ণনা করে, তখন দৈত্যরাজ মানুষের যুদ্ধবিগ্রহ ও ইতিহাস শুনে মানবজাতিকে অত্যন্ত জঘন্য জীব হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
৩. লাপুতা ও অন্যান্য দ্বীপে: তৃতীয় যাত্রায় গালিভার পৌঁছায় এক উড়ন্ত দ্বীপে (লাপুতা), যেখানে মানুষেরা অদ্ভুত সব অবাস্তব ও উদ্ভট বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মগ্ন। এর মাধ্যমে লেখক তৎকালীন তথাকথিত বিজ্ঞানীদের অর্থহীন গবেষণা ও বাস্তবতাবিবর্জিত জ্ঞানচর্চাকে তীব্র উপহাস করেছেন।
৪. হুইনহমদের দেশে: গালিভারের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে দার্শনিক যাত্রায় সে এমন এক দেশে পৌঁছায়, যেখানে যুক্তিবাদী, শান্ত ও সভ্য জীব হলো ঘোড়ারা (হুইনহম)। আর সেই দেশের বন্য, লোভী এবং পাশবিক আচরণের প্রাণীগুলোর নাম ‘ইয়াহু’, যারা দেখতে হুবহু মানুষের মতো। এই অংশে লেখক মানুষের ভেতরের পশুত্ব এবং অসভ্য সত্তাকে অত্যন্ত নগ্নভাবে তুলে ধরেছেন, যা পাঠককে গভীরভাবে আত্মবিশ্লেষণে বাধ্য করে।
গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত বইটি কেন পড়বেন? (Why Read This Book?)
যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন এবং একই সাথে সাহিত্যের গভীরে লুকিয়ে থাকা দার্শনিক অর্থ খুঁজতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য বইটি অবশ্য পাঠ্য। বিশেষ করে যে কারণগুলোর জন্য বইটি পড়া উচিত:
- অসামান্য ব্যঙ্গ ও রসবোধ: বইটি কেবল শিশুদের রূপকথা নয়, এটি বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম তীক্ষ্ণ স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গ রচনা। মানুষের অহংকার ও সভ্যতার মিথ্যা গর্বকে লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে আক্রমণ করেছেন।
- লীলা মজুমদারের জাদুকরী অনুবাদ: বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখিকা লীলা মজুমদারের প্রাঞ্জল, সাবলীল ও মাধুর্যপূর্ণ ভাষার কারণে মূল গল্পের আবেদন বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ন হয়নি, বরং বাংলার পাঠকদের কাছে এটি আরও আপন হয়ে উঠেছে।
- অফুরন্ত কল্পনাশক্তির বিস্তার: লিলিপুট থেকে শুরু করে উড়ন্ত দ্বীপ লাপুতা—লেখকের কল্পনাশক্তির বিশালতা যেকোনো বয়সের পাঠককে প্রবলভাবে বিস্মিত ও মুগ্ধ করবে।
- মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক গভীরতা: আমরা মানুষ হিসেবে আসলে কতটা সভ্য? এই কঠিন প্রশ্নটি লেখক অত্যন্ত সুকৌশলে পাঠকের মনে বুনে দেন।
- চমৎকার সংস্করণ: বাতিঘর প্রকাশনীর এই ২০২৫ সংস্করণটি এর উন্নত বাঁধাই, স্পষ্ট মুদ্রণ এবং প্রচ্ছদের কারণে দীর্ঘদিন সংগ্রহে রাখার মতো একটি মানসম্মত বই।
লেখক ও অনুবাদক পরিচিতি (Author & Translator Bio)
জোনাথন সুইফট (Jonathan Swift): আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী জোনাথন সুইফট (৩০ নভেম্বর ১৬৬৭ – ১৯ অক্টোবর ১৭৪৫) ছিলেন একাধারে একজন প্রাবন্ধিক, রাজনৈতিক প্যামফ্লেট রচয়িতা এবং বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গ-রচয়িতা (Satirist)। ‘গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত’ ছাড়াও তাঁর আরেকটি বিখ্যাত রচনা হলো ‘আ মডেস্ট প্রপোজাল’ (A Modest Proposal)। তিনি তাঁর তীক্ষ্ণ লেখনীর মাধ্যমে সমাজের দুর্নীতি, রাজনৈতিক ভণ্ডামি এবং মানবচরিত্রের স্খলনকে তীব্রভাবে আক্রমণ করতেন। লেখক সম্পর্কে আরও জানতে জোনাথন সুইফট – উইকিপিডিয়া পেজটি ভিজিট করুন।
লীলা মজুমদার: বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম দিকপাল লীলা মজুমদার (১৯০৮-২০০৭)। তাঁর লেখনীর জাদুতে বাংলার অগণিত শিশু-কিশোর সাহিত্যের প্রেমে পড়েছে। ‘হলদে পাখির পালক’, ‘পদিপিসির বর্মি বাক্স’, ‘মাকু’ তাঁর অনবদ্য সৃষ্টির কয়েকটি নিদর্শন। অনুবাদের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী, যার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ এই বইটি।
গ্রন্থাশ্রমের অন্যান্য বই (Related Books)
বিশ্বসাহিত্যের এমন আরও কালজয়ী ক্ল্যাসিক, শিশু-কিশোরদের অ্যাডভেঞ্চার এবং চমৎকার সব অনুবাদ সাহিত্য দেখতে আমাদের স্টোর ঘুরে আসুন। আপনার পছন্দের বইয়ের বিশাল ভাণ্ডার থেকে বই সংগ্রহ করতে ভিজিট করুন: গ্রন্থাশ্রম শপ ক্যাটাগরি।
গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত বইটি অর্ডার করুন (Order Now)
বাতিঘর প্রকাশনীর ২৭১ পৃষ্ঠার এই অসামান্য অনুবাদ গ্রন্থটি আজই আপনার বুকশেলফে যুক্ত করতে নিচের লিংকে ক্লিক করে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্ন করুন:
গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত 👉 অনলাইনে অর্ডার করুন এখানে
অনলাইন অর্ডারের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এর সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়ার ঠিক পাশেই অবস্থিত আমাদের ‘গ্রন্থাশ্রম’ স্টোর থেকে আপনি সরাসরি এসেও বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য আমাদের স্টোর সর্বদা উন্মুক্ত।
স্টোরের অবস্থান (Google Maps Location)
সরাসরি আমাদের স্টোরে এসে বই দেখতে এবং সংগ্রহ করতে গুগল ম্যাপের নিচের নির্দেশনাটি অনুসরণ করুন:








Reviews
There are no reviews yet.