তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু | বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র
- Estimated Delivery : Up to 4 business days
- Free Shipping & Returns : On all orders over $200
তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সাধারণ শিল্পকর্ম। মহাভারতের বনপর্বে বর্ণিত ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির কাহিনীকে উপজীব্য করে বুদ্ধদেব বসু এই কাব্যনাট্যটি রচনা করেছেন। তবে এটি কেবল প্রাচীন কাহিনীর পুনরাবৃত্তি নয়, বরং মানুষের কাম-নাগপাশ, আধ্যাত্মিকতা এবং জাগতিক প্রেমের এক আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু গ্রন্থটি ১৯৬৬ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কারে ভূষিত হয়। আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত এই সংস্করণটি প্রতিটি রুচিশীল পাঠকের সংগ্রহে থাকার মতো একটি অমূল্য রত্ন।

তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু: শাশ্বত প্রেম ও বৈরাগ্যের এক মহাকাব্যিক লড়াই
| বইয়ের নাম | তপস্বী ও তরঙ্গিণী |
| লেখক | বুদ্ধদেব বসু |
| প্রকাশক | আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত) |
| সংস্করণ | 3rd Edition, 2011 |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা | ১০০ পৃষ্ঠা |
| আইএসবিএন (ISBN) | 9788177568547 |
নাটকের পটভূমি ও কাহিনীর বিন্যাস
তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু নাটকের কেন্দ্রে রয়েছেন ঋষিকুমার ঋষ্যশৃঙ্গ, যিনি নারী ও বহির্জগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থেকে অরণ্যে কঠোর তপস্যায় বেড়ে উঠেছেন। অন্যদিকে রয়েছেন বারবণিতা তরঙ্গিণী, যাকে পাঠানো হয়েছে ঋষিকুমারের তপোবল ক্ষুণ্ণ করে তাঁকে লোকালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য। এই দুই বিপরীতধর্মী চরিত্রের মিলন ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে নাটকটি পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। বুদ্ধদেব বসু এখানে দেখিয়েছেন কীভাবে শরীরী কামনা এক সময় অশরীরী প্রেমের রূপ নেয় এবং কীভাবে রূপজীবিনী তরঙ্গিণী নিজেই এক তপোস্বিনীতে রূপান্তরিত হয়। তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু পাঠ করলে মানুষের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বরূপটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
ভাষা ও কাব্যগুণ
বুদ্ধদেব বসুর নাটকের প্রধান আকর্ষণ হলো এর কাব্যিক ভাষা। তিনি নাটকের সংলাপগুলোতে এমন এক ছন্দ ও লালিত্য যোগ করেছেন যা পাঠককে এক মায়াবী জগতে নিয়ে যায়। ১০০ পৃষ্ঠার এই সংক্ষিপ্ত নাটকে শব্দচয়ন এবং ছন্দের বিন্যাস এক কথায় অনবদ্য। তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু কেবল একটি নাটক নয়, এটি একটি দীর্ঘ কবিতা যা পাঠ করলে মনের ভেতর এক প্রশান্তি তৈরি হয়। আনন্দ পাবলিশার্স-এর এই সংস্করণটিতে মুদ্রণ প্রমাদ নেই বললেই চলে এবং এর অলঙ্করণ বইটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
কেন এই কাব্যনাট্যটি আপনার পড়া উচিত?
- ধ্রুপদী সাহিত্যের রস: মহাভারতের প্রেক্ষাপটে আধুনিক মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার এক অনন্য সুযোগ।
- পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্য: সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার জয়ী এই গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নাটকগুলোর একটি।
- জীবন দর্শন: ভোগ এবং ত্যাগের মধ্যবর্তী যে সূক্ষ্ম রেখা, তা বুদ্ধদেব বসু অসাধারণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
- আনন্দ পাবলিশার্স মান: মজবুত বাঁধাই এবং উন্নত মানের কাগজ বইটিকে দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রহের উপযোগী করেছে।
আধুনিক যুগে ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’র প্রাসঙ্গিকতা
বর্তমান যুগে যখন মানবিক সম্পর্কগুলো ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে, তখন তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু আমাদের প্রেমের শুদ্ধতা এবং অনুশোচনার গুরুত্ব শেখায়। তরঙ্গিণীর আত্মত্যাগ এবং ঋষ্যশৃঙ্গের রূপান্তর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের চেতনার পরিবর্তন যেকোনো মুহূর্তে সম্ভব। এই নাটকটি যুগে যুগে মঞ্চস্থ হয়েছে এবং আজও নাট্যকর্মীদের কাছে এটি একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জিং পাণ্ডুলিপি। যারা বাংলা কাব্যনাট্য বা থিয়েটার নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য পাঠ্য।
লেখক পরিচিতি: বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮–১৯৭৪)
বুদ্ধদেব বসু ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক দিকপাল। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক এবং নাট্যকার। ‘কল্লোল’ যুগের অন্যতম প্রধান এই লেখক বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার পথপ্রদর্শক। তাঁর প্রতিটি লেখায় গভীর মননশীলতা ও শিল্পসচেতনতার ছাপ পাওয়া যায়। তপস্বী ও তরঙ্গিণী – বুদ্ধদেব বসু তাঁর নাট্যপ্রতিভার উজ্জ্বলতম নিদর্শন।
গ্রন্থাশ্রমের বিশেষ বিভাগসমূহ (Related Links)
বুদ্ধদেব বসু ও ধ্রুপদী নাটকের আরও কিছু সেরা বই দেখতে ভিজিট করুন:
- বাংলা ও বিশ্ব নাট্যসাহিত্যের সেরা সংগ্রহ
- বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী ক্লাসিক বইসমূহ
- আনন্দ পাবলিশার্স-এর সকল বই
সংগ্রহ করুন এখনই!
ভোগ ও ত্যাগের এক রোমাঞ্চকর কাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে বুদ্ধদেব বসুর এই ধ্রুপদী নাটকটি আজই সংগ্রহ করুন।
🛒 এখনই অর্ডার করুন (Order Now)
* ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং সারা বাংলাদেশে দ্রুত হোম ডেলিভারি সুবিধা।







