হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ | বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র
- Estimated Delivery : Up to 4 business days
- Free Shipping & Returns : On all orders over $200
হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের এমন এক অমর গ্রন্থ, যা একাধারে ব্যঙ্গাত্মক, ঐতিহাসিক এবং সমাজতাত্ত্বিক। উনিশ শতকের নবজাগ্রত কলকাতার সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভণ্ডামি, বাবুসংস্কৃতি আর হাস্যকর সব সামাজিক রীতিকে যিনি প্রথমবারের মতো ‘কথ্য’ ভাষায় তুলে ধরেছিলেন, তিনি হলেন মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ১৩৪ পৃষ্ঠার এই হার্ডকভার সংস্করণটি পাঠকদের দিচ্ছে সেই পুরনো কলকাতার গলিঘুঁজিতে ফেরার এক অনন্য সুযোগ। হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ কেবল একটি বই নয়, এটি একটি সময়ের জীবন্ত আয়না।

হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ: কলকাতার বাবুগিরি ও সমাজের ব্যঙ্গচিত্র
| বইয়ের নাম | হুতোম প্যাঁচার নকশা |
| লেখক | কালীপ্রসন্ন সিংহ |
| প্রকাশক | বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র |
| ফরম্যাট ও পৃষ্ঠা | হার্ডকভার, ১৩৪ পৃষ্ঠা |
| আইএসবিএন (ISBN) | 9841800829 |
বইটির পটভূমি ও রচনার বৈচিত্র্য
১৮৬১ থেকে ১৮৬২ সালের মধ্যে বিভিন্ন খণ্ডে প্রকাশিত হয় হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ। তৎকালীন কলকাতায় যখন বিদ্যাসাগরীয় সাধু ভাষার জয়জয়কার, তখন কালীপ্রসন্ন সিংহ সাহসের সাথে বেছে নিয়েছিলেন কলকাতার সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা বা চলিত রীতি। ‘হুতোম প্যাঁচা’ ছদ্মনামে তিনি অন্ধকার রাতের প্যাঁচার মতোই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখেছেন সমাজের উঁচু তলার মানুষের পাপাচার ও নিচতলার মানুষের সরলতা। রথযাত্রা, দুর্গাপূজা, চড়ক পার্বণ কিংবা কলকাতার নব্য বাবুদের উশৃঙ্খল জীবন—সবই উঠে এসেছে তাঁর লেখনীতে।
সমকালীন কলকাতার সমাজ ও বাবুসংস্কৃতি
হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ গ্রন্থে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে ব্রিটিশ আমলের শুরুতে একদল বাঙালি রাতারাতি ধনী হয়ে ‘বাবু’ উপাধি ধারণ করেছিলেন। তাঁদের আচার-আচরণে আভিজাত্যের চেয়ে মদ্যপান, বেশ্যাগমন এবং বিলাসিতার প্রকাশ ছিল বেশি। লেখক অত্যন্ত রসময় ভাষায় এই বাবুদের কর্মকাণ্ড বর্ণনা করেছেন, যা আজও পাঠকদের হাসির উদ্রেক করে। পাশাপাশি নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের টুকরো চিত্রও এই বইটিতে ধরা পড়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, উনিশ শতকের কলকাতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ পাঠ করা বাধ্যতামূলক।
কেন এই বইটি আপনার ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য সেরা?
- অকৃত্রিম চলিত ভাষা: বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রারম্ভিক ও শ্রেষ্ঠ রূপটি এখানে পাওয়া যায়।
- তীব্র বিদ্রূপ ও হাস্যরস: সমাজের অসঙ্গতিগুলোকে অত্যন্ত নিপুণভাবে হাস্যরসের ছলে খোঁচা দেওয়া হয়েছে।
- ইতিহাসের দলিল: দেড়শ বছর আগের কলকাতার ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিবেশের নিখুঁত বিবরণ।
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সংস্করণ: হার্ডকভার বাঁধাই ও সুন্দর মুদ্রণ বইটিকে দীর্ঘকাল সংরক্ষণের উপযোগী করেছে।
আধুনিক যুগে প্রাসঙ্গিকতা
সময় বদলেছে, কিন্তু হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ-এর প্রাসঙ্গিকতা এতটুকু কমেনি। আজকের সমাজে আমরা যে ধরণের ছদ্মবেশধারী লোক বা ক্ষমতার দাপট দেখি, তার আদি রূপটি লেখক পঁচিশ বছর বয়সেই তাঁর প্রজ্ঞায় ধরে ফেলেছিলেন। যারা বাংলা গদ্যের বিবর্তন এবং উনিশ শতকের বাংলার সমাজ বুঝতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য রেফারেন্স বুক। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই অমূল্য রত্নটিকে পুনরায় মুদ্রণের মাধ্যমে পাঠকদের হাতে তুলে দিয়ে এক মহান কাজ করেছে।
লেখক পরিচিতি: ক্ষণজন্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ
কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০–১৮৭০) মাত্র ৩০ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে বাঙালি সমাজকে যা দিয়ে গেছেন, তা অবিশ্বাস্য। তিনি মহাভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ করেন, যার জন্য তাঁকে বিশাল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছিল। সমাজসেবা, নাট্যচর্চা এবং সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি বাঙালির মনন জগতকে উন্নত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর অমর সৃষ্টি হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ত সিংহ বাংলা সাহিত্যে চিরকাল অক্ষয় হয়ে থাকবে।
গ্রন্থাশ্রমের বিশেষ বিভাগসমূহ (Related Links)
ধ্রুপদী সাহিত্য ও সমাজ সচেতনতামূলক আরও কিছু সেরা বই দেখতে ভিজিট করুন:
- বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী ক্লাসিক সংগ্রহ
- সেরা ব্যঙ্গাত্মক ও সামাজিক প্রবন্ধ
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র-এর সকল বই
সংগ্রহ করুন এখনই!
পুরনো কলকাতার সেই রহস্যময় ও হাস্যকৌতুকপূর্ণ দুনিয়ায় হারিয়ে যেতে ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ বইটি আজই সংগ্রহ করুন।
🛒 এখনই অর্ডার করুন (Order Now)
* ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং সারা বাংলাদেশে দ্রুততম হোম ডেলিভারি সুবিধা।







